যেকোনো জুলাইয়ের তুলনায় বৈশ্বিক উৎপাদন ও বিক্রিতে গত মাসে রেকর্ড গড়েছে টয়োটা মোটর করপোরেশন। উত্তর আমেরিকা ও চীনে হাইব্রিড গাড়ির চাহিদা এ সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর জাপান টুডে।
জুলাইয়ে টয়োটার বৈশ্বিক উৎপাদন ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৮ লাখ ৪৬ হাজার ৭৭১ ইউনিট। এ সময় বিক্রি ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৮ লাখ ৯৯ হাজার ৪৪৯ ইউনিটে পৌঁছে। এতে বিশ্বের শীর্ষ গাড়ি নির্মাতা হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে জাপানি কোম্পানিটি।
অঞ্চলভিত্তিক পরিসংখ্যানে টয়োটার উৎপাদন সবচেয়ে বেশি বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে জুলাইয়ে উৎপাদন ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৯৫ হাজার ১৪৫ ইউনিট। গাড়ি ফেরত নেয়াজনিত উৎপাদন স্থগিতের পর এটি পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত। নতুন ইভি মডেলের জনপ্রিয়তার কারণে চীনে উৎপাদন বেড়েছে ১৭ দশমিক ১ শতাংশ। তবে ভূমিকম্প-পরবর্তী সুনামি সতর্কতায় জাপানে উৎপাদন কমেছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।
টয়োটা জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে কোম্পানির নিট মুনাফা ৪৪ দশমিক ২ শতাংশ কমে ২ দশমিক ৬৬ ট্রিলিয়ন ইয়েনে দাঁড়াতে পারে। এ হ্রাসের পেছনে ভূমিকা রাখবে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক।
এদিকে হোন্ডা, নিশানসহ সাতটি প্রধান জাপানি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জুলাইয়ে উৎপাদন কমিয়েছে। টয়োটাসহ আটটি প্রতিষ্ঠানের মোট উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ১৫ হাজার ৯৩২ ইউনিটে। এ পতনের অনুঘটক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এশিয়া ও ইউরোপের বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা।
জুলাইয়ে হোন্ডার উৎপাদন ৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৩৫ ইউনিট। সংকটে থাকা নিশানের উৎপাদন ৪ দশমিক ২ শতাংশ কমে ২ লাখ ২৭ হাজার ৫৬৩ ইউনিটে নেমে এসেছে। টয়োটা গ্রুপের সহযোগী দাইহাৎসু জুলাইয়ে দেশীয় কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে। এতে উৎপাদন ৬ দশমিক ৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ১ ইউনিটে। অন্যদিকে মাজদার উৎপাদন ২২ দশমিক ৬ শতাংশ কমে হয়েছে ৮৬ হাজার ৫৫১ ইউনিট।